• রক্ত আর হিমোগ্লোবিন বাড়ায় যেসব খাবার

    আমাদের রক্তকোষে আয়রনসমৃদ্ধ প্রোটিন হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। এই প্রোটিন সারা শরীরে অক্সিজেন পরিবাহিত করতে সাহায্য করে। হিমোগ্লোবিন আমাদের দেহের মধ্যকার কিছু কাজ করে। হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে তা শরীরের বিভিন্ন কোষে ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলে জীবিত কোষগুলো ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এছাড়াও হিমোগ্লোবিন কোষ থেকে কার্বোনডাইঅক্সাইড বের করে দেয়। সুস্থ জীবনযাপনে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সঠিক থাকা প্রয়োজন। কিছু খাবার খেয়ে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মান ঠিক রাখা যায়।
    আসুন জেনেনেই খাবারগুলি কি কি – ভিটামিন সি
    ভিটামিন সি এর অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে। তাছাড়া ভিটামিন সি ছাড়া আয়রন পুরোপুরিভাবে শোষণ হয় না। পেঁপে, কমলা, লেবু, স্ট্রবেরি, গোলমরিচ, ব্রোকোলি, আঙুর, টমেটো ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে।
    আয়রন সমৃদ্ধ খাবার
    শরীরে লোহার ঘাটতি হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ। হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে লোহা গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আয়রন সমৃদ্ধ কিছু খাবার হলো- কলিজা, লাল মাংস, চিংড়ি, পালংশাক, আমন্ড, খেজুর, শতমূলী ইত্যাদি।
    ফলিক এসিড
    ফলিক এসিড এক প্রকার ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এটি লাল রক্ত কণিকা তৈরিতে প্রয়োজনীয় উপাদান। সবুজ পাতাযুক্ত সবজি, কলিজা, ভাত, শিমের বিচি, বাদাম, কলা, ব্রোকোলিতে অনেক ফলিক এসিড পাওয়া যায়।
    বিট
    হিমোগ্লোবিন বাড়াতে বিটের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। এতে রয়েছে প্রচুর আয়রন, ফলিক এসিড, ফাইবার ও পটাশিয়াম। এর পুষ্টিমান শরীরের লাল রক্ত কণিকা বাড়ায়।
    আপেল
    দিনে একটি করে আপেল খেয়ে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে পারেন। আয়রনের উৎস আপেলে আরও নানাপ্রকার পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রতিদিন খোসাসহ একটি আপেল খান। অথবা সমানুপাতে আপেল ও বিটের রস মেশাতে পারেন।
    রক্ত পরিশোধন করে যে ৭টি খাবার
    মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো রক্ত। কারণ রক্তের মাধ্যমেই প্রাণীদেহে অক্সিজেনসহ যাবতীয় পুষ্টি উপাদান পৌঁছে থাকে। রক্ত যদি কোন জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় তবে পুরো শরীরেই এর প্রভাব পড়বে। তাই রক্তের বিশুদ্ধতা অতি জরুরি। শরীর থেকে বিষাক্ত ক্ষতিকর পদার্থ বা টক্সিন বের করলে রক্ত বিশুদ্ধ হয়। কিছু খাবার আছে যেগুলো রক্ত বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে।
    আসুন জেনে নিই এমনই ৭টি খাবারের নাম ও তাদের কার্যকারিতা- ১। আপেল
    আপেল একটি সহজলভ্য ফল যাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবার আছে। এ উপাদানগুলো লিভারের টক্সিন দূর করতে সহায়ক। উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার হওয়ায় এটি খুব সহজেই হজম হয়ে যায়। এছাড়া এটি কোলেস্টেরল কমিয়ে রক্ত পরিষ্কার করা থাকে।
    ২। অ্যাভোকাডো
    নানা পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ এই খাবার কোলেস্টেরল হ্রাসে সাহায্য করে। ধমনীতে ব্লক তৈরি হওয়া রোধ করে। এছাড়া এতে থাকা গ্লুটাথিয়ন নামক উপাদান লিভারকে বিষাক্ত পদার্থ হতে মুক্ত রাখে।
    ৩। বিট
    অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং নানা পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ এই সবজিটি শরীরকে রোগ জীবাণু থেকে রক্ষা করে থাকে। রক্ত থেকে টক্সিন দূর করে লিভারকে সুস্থ রাখে এবং এটি রক্ত স্বল্পতাও দূর করে থাকে।
    ৪। বাঁধাকপি
    বাঁধাকপিতে বিদ্যমান অ্যান্টিক্যান্সার এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান লিভারে বাড়তি হরমোন ভাঙতে সাহায্য করে । এটি পরিপাক তন্ত্র পরিষ্কার করে এবং লিভার সুস্থ রাখে।
    ৫। রসুন
    রসুন দেহ (বিশেষ করে রক্ত ও অন্ত্র) থেকে অভ্যন্তরীণ প্যারাসাইট এবং ভাইরাস দূর করতে ভূমিকা রাখে । এতে থাকা অ্যান্টি ক্যান্সার এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে থাকে।
    ৬। আঙ্গুর
    আঙ্গুর রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করে থাকে। এছাড়া লাল আঙ্গুরে পেকটিন নামক ফাইবার রয়েছে যা রক্তে কোলেস্টেরলকে কমিয়ে দিয়ে সাহায্য করে।
    ৭। হলুদ
    হলুদে বিদ্যমান কারকিউমন নামক শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থেকে অনেক পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব যা লিভার সুস্থ রেখে হজমশক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। এর প্রাকৃতিক উপাদান রক্তপ্রবাহ শুদ্ধ করে থাকে। সুস্থ থাকতে এই খাবারগুলো প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন।