• পৃথিবী বিখ্যাত বেকিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাদিয়া

    দেশের বাইরে বাংলাদেশিদের প্রতিভার প্রমাণ এবার দেখা গেলো ব্রিটেনের “গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ” এর মঞ্চে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাদিয়া হুসাইন নির্বাচিত হন ২০১৫ সালের বিজয়ী বেকার হিসেবে। প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার পেছনে মূল কারণ ছিলো তার তৈরি "বিয়ের কেক"। এখানে উল্লেখ্য যে "গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ" একটি পৃথিবী বিখ্যাত বেকিং প্রতিযোগিতা। যারা বেকিংটাকেই নিজের নেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন, এমন সকল রাঁধুনির চোখ থাকে এই প্রতিযোগিতায়। দ্যা গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ বা বেশীরভাগ সময়ে শুধু বেক অফ বা GBBO বলা হয় যাকে, এটি একটি বেকিং প্রতিযোগিতা যা বিবিসি চ্যানেলে প্রথম দেখানো শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। প্রতিযোগীদের মাঝ থেকে সবচাইতে দক্ষ রাঁধুনিকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে।
    ৩০ বছর বয়সী নাদিয়া ইতোমধ্যেই তিন সন্তানের জননী। তবে এই প্রতিযোগিতায় তিনি বিয়ের কেক তৈরি করলেন কী করে? এ ব্যাপারে তিনি জানান নিজের ইচ্ছেপুরনের কথা। ব্রিটেনের লিডস অঞ্চলে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা হলেও বিয়ের জন্য তিনি ফিরে এসেছিলেন বাংলাদেশে। এখানে বিয়ের সময়ে কেক কাটা তেমন প্রচলিত নয়। এ কারণে বিয়ের কেক কাটার ইচ্ছে কখনো পূরণ হয়নি তার। এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে তাই তিনি নিজের সব প্রতিভা এবং কল্পনা ঢেলে দিয়ে তৈরি করেন “মাই বিগ ফ্যাট ব্রিটিশ ওয়েডিং কেক”। এটা ছিলো একটা লেমন ড্রিজল কেক, আর এই কেকের স্ট্যান্ড সাজানো ছিলো তার লাল, নীল এবং সাদা রঙ্গের একটি শাড়ি দিয়ে। একই সাথে মাল্টিকালচারাল এবং সুস্বাদু হওয়ায় এই কেকটি তাকে বিজয়ীর মর্যাদা এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
    ১২ বছর বয়স থেকেই বেকিং করে আসছেন নাদিয়া। পুরো প্রতিযোগিতা জুড়েই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে এসেছেন। ফাইনালে তিনিই ছিলেন একমাত্র নারী। বিজয়ি ঘোষণার পর তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তার কান্না দেখে আবেগি হয়ে পড়েন এই প্রতিযোগিতার নির্বাচক মেরি বেরি পর্যন্ত। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রিয় প্রতিযোগীও ছিলেন তিনি।
    রেডিও টাইমসকে বক্তব্য দেবার সময়ে নাদিয়া জানান, অন্যান্য ব্রিটিশ নাগরিকের মতো তাকে একই চোখে না দেখতে পারলেও তিনি যে তাদের মতোই বেকিং করতে পারেন, এটা যেন মানুষ বুঝতে পারে সেই আশাই করেন তিনি।
    এই কেক তিনি উৎসর্গ করেন নিজের স্বামীকে, যার প্রিয় কেক এই লেমন ড্রিজল। প্রতিযোগিতার শেষে এই কেক নিজের পরিবারের সাথে উপভোগ করেন তিনি। প্রতিযোগিতার সময়ে ক্যামেরার সামনে তার স্বামী, আবদাল জানান, এই অল্প সময়ের মাঝেই নাদিয়া নিজের বেকিং এর ব্যাপারে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন এবং পরিবারে চোখে হয়ে উঠেছেন “চ্যাম্পিয়ন”।
    প্রতিযোগিতায় সময় দেবার জন্য নাদিয়া পরিবারকে সময় দিতে পারেননি। তখন তার দায়িত্ব পালন করেন আবদাল। তবে প্রতিযোগিতা শেষ হলে তার জীবনে আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে জানান নাদিয়া।