• ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় ৮টি টিপস

    আপনার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে মাত্র বা আপনার অনেকদিনের ক্যারিয়ার এবং ক্যারিয়ার বিষয়ে আপনি অভিজ্ঞ তবুও নিচের কিছু নির্দেশনা আপনার ক্যারিয়ারের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৯টি ক্যারিয়ার টিপস নিম্নে দেওয়া হলো

    ১. কখনো বই পড়া বন্ধ করবেন না
    দীর্ঘ পাঠাভ্যাস আপনার ক্যারিয়ারের চাবিকাঠি। দুনিয়া প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হচ্ছে। লোকজন তার চাকরি-বাকরি, উন্নতির নিত্যনতুন দুয়ার খুঁজছে। আপনি যদি মনে করেন আপনার বর্তমান কর্মদক্ষতা যথেষ্ট, তবে হয়ত আপনি মনে করছেন আপনার বর্তমান চাকরিটিও আপনার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আপনি যদি জীবনে, চাকরি-বাকরি-ব্যবসায় আরো উন্নতি ঘটাতে চান তবে আপনার কর্মদক্ষতাকে প্রতিনিয়তই হালনাগাদ করতে হবে।

    ২. শুনুন, শিখুন এবং জিজ্ঞ‌‌‌াসা করুন
    একজন ভালো শ্রোতা অনেক কিছু শিখতে পারেন। শুনুন আপনার সহকর্মীর কথা, আপনার বস এবং উর্ধ্বতনদের কথা। আপনি তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। যে বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে সে বিষয়ে তাদের সাথে আলাপ করুন, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। শুনুন এ বিষয়ে তারা কী বলে। তাদেরকে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা বলুন এবং কীভাবে আরো ভালো করা যায় সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ জিজ্ঞাসা করুন। অধিকাংশ মানুষই বিনে পয়সা জ্ঞান দিতে পছন্দ করেন।

    ৩. বর্তমান কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিন
    বর্তমান কাজ বা কর্মক্ষেত্রটিই হতে পারে আপনার ক্যারিয়ার গড়ার সেরা সুযোগ। খুব কম সফল লোকই গড়পড়তা মানুষ থেকে আলাদা হন। কিন্তু বিনা পরিশ্রমে কোনো কিছুই অর্জন করা যায় না। আপনি যদি আপনার কাজটি ঠিকঠাকমতো করতে পারেন এবং আপনার দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারেন তবে আপনার নতুন ক্যারিয়ার শুরু করতে অনেক সহজ হবে। আপনি কী করতে পারেন, আপনার পক্ষে কী করা সম্ভব এসব বিষয়ে আপনার উর্ধ্বতনের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন। কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। কর্মক্ষেত্রে প্রমাণ করুন যে আপনি একজন কাজের লোক।

    ৪. যোগাযোগ বাড়ান
    যোগাযোগের ক্ষেত্র বাড়ানো আপনার ক্যারিয়ার গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আপনি কী জানেন ৫০ ভাগ কাজকর্ম, চাকরি-বাকরিই যোগাযোগের ফলে ঘটে। আপনার যদি খুব ভালো যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, এটি আপনার ভবিষ্যত ক্যারিয়ার, সুযোগ-সুবিধা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরিতে প্রতিদিন সময় দিন। যেসব লোকের সাথে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন এবং সম্পর্ক তৈরি করুন। নিয়মিত তাদের খোঁজখবর নিন, তাদের স্বাস্থ্য, ব্যবসা বা চাকরি বাকরি বিষয়ে আন্তরিক প্রশ্ন করুন।

    ৫. আপনার বর্তমান করণীয় চিহ্নিত করুন
    অনুমান নয় বর্তমানে আপনার কী করণীয় তা চিহ্নিত করুন। অনুমানের উপর নির্ভর থেকে আপনার বর্তমান সময় ও মেধার অপচয় ঘটাবেন না। আপনি যখন একটি নতুন কাজ বা চাকরি শুরু করেন, আপনার কাজের অগ্রাধিকার সম্পর্কে নিশ্চিত হউন। আপনার কাজের অগ্রাধিকার সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনে বারবার আপনার উর্ধ্বতনদের কাছ থেকে জেনে নিন।

    ৬. পরবর্তী কাজটি চিহ্নিত করুন
    আপনার পরবর্তী কাঙ্ক্ষিত কাজ বা চাকরিটি অবশ্যই চিহ্নিত হওয়া উচিত। যাতে আপনার আগ্রহ আছে এমন বিষয়ই পরবর্তী কাজ হি‌‌‌সেবে নির্ধারণ করুন। সবার আগ্রহ-পছন্দের ধরন এক রকম নয়। সুতরাং অন্য কেউ একটি কাজ করলেই যে আপনাকেও তা করতে হবে এমন নয়। আপনি যে কাজ উপভোগ করতে পারবেন, আপনার সামর্থ্যের সর্বোচ্চটি দিতে পারবেন তাই আপনার ভবিষ্যত কর্ম হিসেবে পরিকল্পনায় থাকা উচিত। নিজেকেই প্রশ্ন করুন, কোন ধরনের কাজে আপনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আপনি কি প্রযুক্তি সম্পর্কিত কাজকর্ম উপভোগ করেন বা নানা লোকজনের সাথে কাজ কাজ করতে পছন্দ করেন? আপনি কি আপনার নিজের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহী? আপনি কী একজন শিল্পী, একজন ডিজাইনার বা একজন দক্ষ প্রকৌশলী বা দক্ষ ব্যবস্থাপক? আপনার ভবিষ্যত ক্যারিয়ার তৈরির আগেই আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত।

    ৭. নিজে নিজে প্রস্তুতি নিন
    আপনার স্বপ্ন, দক্ষতা অবশ্যই ভবিষ্যতে প্রমাণিত হবে। সুতরাং প্রস্তুত হোন। একটি মুহূর্তও দেরি নয়। আপনার জীবনবৃত্তান্ত এখনই হালনাগাদ করুন এবং এটি প্রতিনিয়তই হালনাগাদ রাখুন। কিভাবে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করতে হয় অথবা কিভাবে আপনি নি‌‌‌জেকে তুলে ধরবেন তা যদি না জানেন এখনই জেনে নিন।

    ৮. আপনার স্বপ্নকে উপলব্ধি করুন
    কর্মের মাধ্যমে আপনার স্বপ্ন তুলে ধরুন। ব্যস্ততা যেন আপনার স্বপ্নকে হত্যা না করে। যদি আপনার লক্ষ্যমাত্রা অতিউচ্চ হয়, এখনই থেকেই তা বাস্তবায়নে নেমে পড়ুন। আপনার যদি আরো শিক্ষাগ্রহণ, আরো ভালো চাকরি, নিজের প্রতিষ্ঠান তৈরি বা এ ধরনের কোনো স্বপ্ন থাকে তবে দৈনন্দিন জীবনকে বিশ্রামাগার বানাবেন না। আপনার দৈনন্দিন জীবন প্রয়োজনীয় ব্যস্ততায় সাজিয়ে তুলুন। পরিকল্পনা মাফিক অগ্রসর হউন, ইঁদুর দৌড়ে না নেমে আপনার শক্তি সামর্থ্যর সদ্ব্যবহার করুন।