• ঘুরে আসুন সুবলং ঝর্ণা

    রাঙামাটি, প্রাকৃতিক নৈসর্গের অপূর্ব লীলাভূমি এ পাবর্ত্য জেলা। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তবর্তী রাঙামাটির অনেক আকর্ষণের অন্যতম সুবলং ঝর্ণা।
    ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে প্রকৃতির পরশ মাখতে সুবলং ঝর্ণা, সেইসঙ্গে সৌন্দর্যের শহর রাঙামাটি হতে পারে সেরা পছন্দ। তাই সুবলং ঝর্ণা দেখতে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধুরা মিলে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটির সুবলং।
    ঈদকে সামনে রেখে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বরণ করে নিতে তৈরি হয়ে আছে প্রাকৃতিক নৈসর্গের এই লীলাভূমি। পর্যটকদের কাছে বর্তমানে রাঙামাটির মূল আকর্ষণই হচ্ছে সুবলংয়ের অসংখ্য পাহাড়ি ঝর্ণা ও সুবলং যাওয়ার পথে হ্রদ- পাহাড়ের মন্ত্রমুগ্ধ মিতালি। তাই রাঙামাটি এসে সুবলংয়ে না যাওয়া মানে রাঙামাটির সৌন্দর্যকেই মিস করা।
    এছাড়া চলতি সময়টাই সুবলং ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার সেরা সময়। সুবলং পৌঁছে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও ঝর্ণার পড়ন্ত প্রপাত দেখে থমকে যাবেন আপনি।
    পাহাড়ের কোল বেয়ে নেমে আসা সুবলং ঝর্ণা। বর্ষা মৌসুমে মূল ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে। এর অপার্থিব পানিচ্ছটায় মানুষ মাত্রই মুগ্ধ হতে বাধ্য।
    রাঙামাটি সদর হতে সুবলংয়ের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। সুবলং যেতে নৌপথ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। রাঙামাটি শহর থেকে নৌপথে সুবলং যেতে সময় লাগবে এক ঘণ্টা। রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার, পর্যটন ঘাট কিংবা জেলার যেকোনো স্থান থেকে স্পিডবোট ও নৌযানে করে সহজেই সুবলং যাওয়া যায়। দেশীয় ইঞ্জিনচালিত বোট বা স্পিডবোটে চড়ে কাপ্তাই হ্রদ ঘুরতে ঘুরতেও যেতে পারেন সুবলং। স্পিডবোটে যেতে লাগবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট।
    সুবলং বড় ঝর্ণা থেকে ৫ মিনিটেই যেতে পারেন সুবলং বাজারে। এখানে পাহাড়িদের উৎপাদিত বিভিন্ন কাঁচা পণ্য কিনে নিতে পারেন। তবে সুবলংয়ে পর্যটকদের জন্য থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। দিনে গিয়ে তাই দিনের আলো থাকতেই শহরে ফিরে আসতে হবে আপনাকে।
    সুবলং থেকে আসার পথে দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত পর্যটকদের জন্য রয়েছে বেশ-কয়েকটি উপজাতীয় রেস্তোরা। এসব রেস্তোরায় পাবেন হরেক রকমের সব খাবার। স্বাদ ও বৈচিত্র্যে যা অনন্য।
    এখানকার রেস্তোরার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গরবা, টুক টুক ইকো ভিলেজ ও পেদা টিং টিং। কাঠ ও বাঁশের কারুকাজে তৈরি এসব রেস্তোরায় পাবেন দেশীয় ও পাহাড়ি মজাদার সব খাবার। রয়েছে মাছ কেবাং ও ব্যাম্বো চিকেনের মতো দারুণ পাহাড়ি খাবার। এছাড়াও রাঙামাটি ভ্রমণে সময় থাকলে দেখে আসতে পারেন আরও নানা মনোমুগ্ধকর স্থান।
    জেলার সবচেয়ে বেশি পর্যটন স্পট রয়েছে বরকল উপজেলায়। এ উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৮টি ঝর্ণা রয়েছে। রাঙামাটি শহর থেকে নৌপথে বরকলের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। যেতে চাইলে আপনাকে সুবলং বাজার থেকে পূর্বদিকে কর্ণফুলী নদীর উজানের দিকে এগোতে হবে।
    কর্ণফুলী নদীর বুক চিরে বরকল যাওয়ার পথে নদীর দু’ধারে উঁচু-নিচু অসংখ্য পাহাড় ও উপজাতি গ্রামের সৌন্দর্যে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। এখানেই অবস্থিত জেলার সর্বোচ্চ পর্বত ঐতিহ্যবাহী ফালিতাঙ্গ্যা চুগ। ফালিত্যাঙ্গা চুগের পাদদেশে অবস্থিত বরকল উপজেলা সদর। এখানেই রয়েছে বরকল উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়, বাজার ও বিজিবি জোন।
    একসময় স্থানীয়রা ফালিত্যাঙ্গা চুগকে ডাকতেন ‘পাকিস্তান টিলা’ নামে। ১৯৭১ সালে পাক সেনারা এ পাহাড়ে বড় বড় বাঙ্কার খুঁড়ে আশ্রয় নিয়েছিল বলেই এর নামকরণ হয়েছিল ‘পাকিস্তান টিলা’।
    ফালিতাঙ্গ্যা চুগ রাঙামাটির সবচেয়ে উঁচু পর্বত। এর উচ্চতা ১ হাজার ৬৬৮ ফুট। এ পাহাড়ের উপর থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। একইসঙ্গে দেখা যায় ভারতের মিজোরাম রাজ্য।
    তাই আর দেরি কেন? অপূর্ব নৈসর্গের সুবলং আর ফালিতাঙ্গ্যা চুগ দেখতে বেড়িয়ে পড়ুন ঈদের ছুটিতে। সেইসঙ্গে আপনার চোখ ও মনকে প্রশান্তি এনে দেবে রাঙামাটির হ্রদ-পাহাড়ের ভাঁজে থাকা সৌন্দর্য।
    কিভাবে যাবেন
    ঢাকার কলাবাগান, কমলাপুর, কল্যাণপুর ও ফকিরাপুল থেকে রাঙামাটিগামী যেকোনো বাসে চেপে যেতে হবে রাঙামাটি শহরে। শ্যামলী এসি বাসে জনপ্রতি ৮০০ টাকা। এছাড়া শ্যামলী, ইউনিক ও হানিফ পরিবহনের বাসে ননএসিতে ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৬২০ টাকার মতো।
    পরে রাঙামাটি শহর থেকে সুবলং যেতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা রিজার্ভ করতে পারেন। ভাড়া পড়বে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা। তবে একসঙ্গে কয়েকজন মিলে গেলে খরচ অনেকটা কম।
    থাকবেন কোথায়
    রাঙামাটি শহরে থাকার জন্য প্রায় অর্ধশত আবাসিক হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, হোটেল সুফিয়া, নাদিশা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল গ্রিন ক্যাসেল, হোটেল সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল।
    এসব হোটেলে এসি রুম (ডাবল বেড) প্রতিদিন ১৭০০ টাকা এবং ননএসি (ডাবল বেড) ভাড়া পড়বে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।