• সফল নারী উদ্যোক্তা মেরিডিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কোহিনুর কামাল

    মেরিডিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কোহিনুর কামাল সাম্প্রতিক সময়ে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি ও পরিচিতি লাভ করেছেন দেশের খ্যাতনামা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কোহিনুর কামাল। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে তার একাগ্র চেষ্টা, নিষ্ঠা ও কঠোর শ্রম ছিল মূল চালিকাশক্তি। তার আজকের এ সফলতার পেছনে তার স্বামী বিশিষ্ট শিল্পপতি এস এম কামাল পাশার বিশেষ অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি। একজন সফল নারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তার আজকের এ অবস্থানে আসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, `আমি যখন এইচএসসি পাস করি তখন আমার বিয়ে হয়। স্বামীর সংসারে এসে বিশাল যৌথ পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়। ঘরের বড় বউ হিসেবে আমি আমার শ্বশুরবাড়ির সব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করি। আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমার স্বামীর ব্যবসা সীমিত পর্যায়ে ছিল। পরে আমার স্বামীর ব্যবসার পরিধি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে তার পক্ষে একা ব্যবসা সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না, আমি মাঝেমধ্যে তাকে তার ব্যবসা-ব্যাণিজ্যের ব্যাপারে সহযোগিতা করতাম এবং গঠনমূলক পরামর্শ দিতাম। এরই মধ্যে আমার কোলজুড়ে আসে তিন পুত্রসন্তান।ঘরসংসার, স্বামী-সন্তানকে সময় দিয়ে আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে যেতে থাকি।`এদিকে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে সাফল্যের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। সেই সঙ্গে কোহিনুর কামালের দায়িত্ব দিন দিন বাড়তে থাকে।
    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, `আমাদের মেরিডিয়ান গ্রুপ প্রথম ব্যবসা শুরু করে চট্টগ্রাম শহরে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট মেরিডিয়ান হোটেল দিয়ে। হোটেল ব্যবসায় সফলতার পর আমার স্বামী পটেটো চিপস ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। আমাদের নিজস্ব জায়গায় প্রতিষ্ঠা করেন মেরিডিয়ান চিপস ফ্যাক্টরি। মেরিডিয়ান চিপস সারা দেশে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়। মেরিডিয়ান চিপসের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কারখানার পরিধি এবং অফিসের পরিধি অনেক বেড়ে যায়। আমি এবং আমার স্বামী হোটেল ও চিপসের ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি।
    বান্দরবানের লামায় পাহাড় আবাদ করে গড়ে তুলি বিশাল বাগান, যা মেরিডিয়ান এগ্রো নামে পরিচিত। প্রায় ১ হাজার একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা বাগানে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ করেছি। আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের বাগানে রাবার ও আম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করছি। লামার গহিন পাহাড়ে উন্নত জাতের আম্রপালিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আমের চাষ করে পুরো পার্বত্য এলাকায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। এ দেশে আমরাই সর্বপ্রথম ভারতীয় উন্নত জাতের আম আম্রপালির চাষ শুরু করি। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভিত্তিতে আম্রপালি আমের চাষ হচ্ছে। আমাদের বাগানে উৎপাদিত রাবার দেশের রাবারের চাহিদা কিছুটা হলেও মেটাতে সক্ষম হচ্ছে।
    মেরিডিয়ান এগ্রোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় অবস্থিত মুহুরী প্রজেক্টে গড়ে তুলেছি কে কে ফিশারিজ নামে বিশাল মৎস্য খামার। আমাদের মৎস্য খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন হচ্ছে। তা ছাড়া আমাদের মৎস্য খামারে হ্যাচারি গড়ে তুলেছি। মৎস্য হ্যাচারিতে উৎপাদিত মাছের পোনা সারা দেশে সরবরাহ করছি। কে কে ফিশারিজ অ্যান্ড হ্যাচারি গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদনের জন্য ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার লাভ করেছে। মেরিডিয়ান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১০ সালে পরিবেশবান্ধব বাগান গড়ে তোলার জন্য রাষ্ট্রীয় পদক লাভ করেছে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের অগ্রগতির জন্য ২০১৪ সালে মেরিডিয়ান এগ্রো বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। এসব জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও আমাদের প্রতিষ্ঠান আরো অসংখ্য পুরস্কার লাভ করে।`
    একজন সফল নারী শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পাক্ষিক অনন্যা শীর্ষদশ নারীর একজন হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করেছে। তিনি ব্যস্ত কর্মজীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে_ প্রেসিডেন্ট ইনার লুইলার ক্লাব অব চিটাগাং (২০১৫-১৬), চেয়ারপারসন লিও ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি ৪ (২০১৫-১৬), এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বার অটোস (জাপান) (২০১৫-১৬), অ্যাডভাইজার প্রয়াস, প্রেসিডেন্ট লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সেন্ট্রাল (২০১২-১৩) এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও তিনি আরো বহু কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত।